Varendra University

বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ০২ জুন, ২০২২ তারিখ দুপুরে রাজশাহীর খড়খড়ি বাইপাস এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে এ সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আবদুল হামিদের প্রতিনিধি হিসেবে সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।


অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিক ও সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ। উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও যুক্তরাজ্যে
নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার প্রফেসর সাইদুর রহমান খান এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম ওসমান গণি তালুকদার।


বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও অভিভাবকদের মানসিকতার সমালোচনা করে অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘বর্তমানে সবাই পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত। কে কতটুকু শিখছে তা নিয়ে আমরা খুব বেশি ভাবিত নই। আমাদের অভিভাবক, আমাদের শিক্ষকমণ্ডলী সবাই সন্তানদের ভাল রেজাল্টের দিকে নজর দিচ্ছেন। পাঠ্যপুস্তকের পাতার মধ্যে তাদের আটকে রেখেছেন। কিন্তু জীবনটা তো অনেক বড়। জীবনটাতো শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে আটকে থাকে না।’ গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সামনে আমরা যে পৃথিবীতে পা দিতে যাচ্ছি, সেই
পৃথিবীতে কিন্তু আরও নতুন করে পরীক্ষা দিতে হবে। সেই পরীক্ষার প্রস্তুতি আমাদের কতটুকু আছে?’ 
সমাবর্তনের সভাপতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য স্থির করুন। আপনাদের মেধা, আপনাদের দক্ষতা-যোগ্যতা-শ্রম-অধ্যবসায় দিয়ে আপনারা লেগে থাকবেন। লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই। খেয়াল রাখবেন, সেই সাফল্য যেন কখনো কোনো অসততার কলুষতার কালিমা লিপ্ত না হয়।’ তিনি সাফল্য পাওয়ার পর সমাজের সবার প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।


বিশেষ অতিথি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, বাংলাদেশে এখন প্রচুর কর্মক্ষম মানুষ রয়েছে যা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে নেই। এজন্য বাংলাদেশ প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী প্রস্তুত করে উন্নত দেশগুলোতেও প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান ঘটানো যায় যা অর্থনীতির অগ্রগতি ঘটাতে পারে । এলক্ষ্যে তিনি মানসম্মত শিক্ষার উপর গুরত্বারোপ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানের প্রশংসা করেন।


বিশেষ অতিথি ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ তাঁর বলেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে আসছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন।


মাগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উচ্চমানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান খানের অবদান স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কখনো মানের সাথে আপস করে না। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা-নির্ভর ও গুণগতমানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার দিকে বিশেষ জোর দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে সুদক্ষ, সুশিক্ষিত ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে মোট ১৫২৭ জন গ্রাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এদিন দুইজনকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ও ৯ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম ও ফার্মেসি বিভাগের আনিকা তাহসিন।

ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের আলেয়া আক্তার মৌসুমী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের মো. সাজেদুর রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. নূর নবী, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশাল কর্মকার, ইংরেজি বিভাগের ইসরাত জাহান, আইন ও মানবাধিকার বিভাগের মো. সাজ্জাক হোসেন ও ফার্মেসি বিভাগের আনিকা তাহসিন, সমাজবিজ্ঞানের আলফা আলম ও অর্থনীতি বিভাগের মো. সোহানুর রহমান। সমাবর্তনে দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি বিভাগের গ্রাজুয়েটদের অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তনের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত ব্যান্ড সঙ্গীত দল ওয়ারফেজ , জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী সামিনা চৌধুরী ও এই প্রজন্মের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ফাতিমা তুয যাহরা ঐশীও সঙ্গীত পরিবেশন করেন।