স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর হবে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী : খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর হবে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী : খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

‘আমরা মানুষ। আমরা সবাই মিলে মানবজাতি, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য কাজ করতে চাই। পাশাপাশি আমরা কাজ করতে চাই ব্যক্তিজীবনেও।

তাহলেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষা সেটিই হবে প্রকৃত শিক্ষা। আমি আশা রাখি-বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেই শিক্ষা নিয়ে এই বাংলাদেশকে আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর হবে।’

উত্তরাঞ্চলের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের’ ঈদ পুনর্মিলনী ও নবীন-বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী নগরী বাইপাস রোড (খড়খড়ি) এলাকায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে বলে বিশ্বাস করি। কারণ, একটি বিষয় মনে রাখতে হবে- যে জাতি ইতিহাসকে ভুলে যায়, ইতিহাসকে বিশ্বাস করে না, সে জাতি কখনো এগিয়ে যেতে পারে না।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পরে বাংলাদেশের ইতিহাসকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের পরিবর্তে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল।

মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবর্তে রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের এই দেশের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। আজকের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং ইতিহাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই এতো সংকটের মধ্যেও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন-অগ্রগতি যেমন থেমে থাকেনি তেমনিভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিও থেমে থাকেনি। বাংলাদেশ আজকে একটি মর্যাদার জায়গায় গেছে।’

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফয়জার রহমানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এম. সাইদুর রহমান খান, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি এ.কে.এম কামরুজ্জামান খান, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক শামীম আহসান পারভেজ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রধান স্থপতি ড. প্যাট্রিক ডি’ রোজারিও প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জনাব হাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘নবীনদের বরণ একটি আনন্দের বিষয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশনার পাশাপাশি প্রবলভাবে খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে। মাদক পরিহার করতে হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করবো। বরেন্দ্র বিশ^বিদ্যালয় হবে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত।’

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি এ.কে.এম কামরুজ্জামান খান নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টের সম্মানিত সদস্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আপনারা যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের সহযোদ্ধা। আপনারা এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই দেশকে।’

ঈদ পুনর্মিলনী ও নবীন-বরণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট-এর সম্মানিত সদস্য কামরুন রহমান খান ও মোহাম্মদ আলী দ্বীন।

উপস্থিত ছিলেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সুরঞ্জিত মন্ডল, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।