উৎসবমুখর পরিবেশে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জেসিএমএস বিভাগের ‘চড়ুইভাতি’আয়োজন

উৎসবমুখর পরিবেশে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের  জেসিএমএস বিভাগের ‘চড়ুইভাতি’আয়োজন

“আনন্দেরই সাগর হতে এসেছে আজ বান” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ (জেসিএমএস) বিভাগের উদ্যোগে প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বাসময় পরিবেশে বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাজশাহী নগরীর চৈতির বাগানে আয়োজিত এ বনভোজনের নাম দেওয়া হয় ‘চড়ুইভাতি’।

রাজশাহীর মনোরম পরিবেশে অবস্থিত চৈতির বাগান যেন শনিবার (২ মে ২০২৬) একদিনের জন্য রূপ নিয়েছিল প্রাণের মিলনমেলায়। অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল এ ছিল স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা। 

বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে পুরো দিনটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। বিভাগের প্রভাষক মো. সাজ্জাদ হোসেন, মুহাম্মদ রাকিব হোসাইন, তন্দ্রা মন্ডল, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, মোহা. মোস্তাফিজুর রহমান  ও মো. ইয়াছিন আহমেদও দিনভর এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। 

সকল সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে দিনভর মজার সব গেমসসহ নানা আয়োজনে মেতে ওঠেন। বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরেন গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি এবং অভিনয়ের মাধ্যমে। একের পর এক পরিবেশনা মুগ্ধ করে উপস্থিত সবাইকে। তরুণদের সৃজনশীলতা ও প্রাণশক্তির এই সম্মিলিত প্রকাশ অনুষ্ঠানটিকে দেয় আলাদা মাত্রা। 

সবশেষে আকর্ষণীয় র‍্যাম্প শো’র মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে, যা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে বাড়তি উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রুবাইয়াতুল জান্নাত রূপন্তী বলেন, “ভর্তি হওয়ার পর থেকে ক্লাস আর পরীক্ষার মধ্যেই সময় কেটেছে। আজ বন্ধু ও সিনিয়রদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটালাম। আশা করি আগামীতে আরও বেশি মজা করতে পারবো।”

শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নয়ন মন্ডল বলেন, “এই আয়োজনটা আমাদের জন্য বিশেষ, কারণ এটি আমাদের শেষ পিকনিক। এতদিন একসাথে অনেক স্মৃতি তৈরি করেছি, আর আজকের এই দিনটা সেই স্মৃতিগুলোর অন্যতম হয়ে থাকবে। ব্যস্ততা আর ভবিষ্যতের চিন্তার মাঝে হয়তো এমন করে একসাথে সময় কাটানোর সুযোগ আর পাবো না।”

বিভাগের কো-অর্ডিনেটর শাতিল সিরাজ বলেন, “শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি দূর করে তাদের জীবনে আনন্দ ও প্রাণের যোগ ঘটাতে এবং পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করতে আজকের এ আয়োজন। প্রতি বছরই শীতকালে বনভোজনের আয়োজন করা হয়। এবার গ্রীষ্মকালে হওয়ায় শহরের মধ্যেই আয়োজনটি করা হয়েছে।”

দিনব্যাপী এই বনভোজন শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ, সম্প্রীতি ও আনন্দের এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করে।