উত্তরবঙ্গের অন্যতম বেসরকারী বিদ্যাপীঠ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের কোর্সের অন্তর্ভুক্ত একটি বিশেষ আকর্ষণ “মক ট্রায়াল সেশন”। প্রতি সেমিস্টারের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠিত হয়েছে স্প্রিং ২০২৬ সেশনের মক ট্রায়াল । ৭ম সেমিস্টার (৩২ তম ব্যাচ) ও ৮ম সেমিস্টার (৩১ তম ব্যাচ) এর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন এ বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে গত মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ তারিখ আইন ও মানবাধিকার বিভাগের অদম্য প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমে দিনব্যাপি ২টি পর্বে অনুষ্ঠিত হয় স্প্রিং ২০২৬ সেশনের মক-ট্রায়াল পর্ব।
আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রচলিত শিক্ষণীয় এই মক-ট্রায়ালে সভাপতিত্ব করেন আইন ও মানবাধিকার বিভাগের সম্মানিত কো-অর্ডিনেটর, প্রফেসর আবু নাসের মো. ওয়াহিদ। আইন ও মানবাধিকার বিভাগের সম্মানিত প্রভাষক মো. শামসুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এবং বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকদের মেন্টরিং এর মাধ্যমে সুসম্পন্ন হয় এই মক ট্রায়াল।
এছাড়াও মক ট্রায়ালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নিম্ন আদালতের সম্মানিত দুইজন বিচারকের উপস্থিতি, যা উপস্থিত সকলকে বিপুল অনুপ্রেরণা প্রদান করে, বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকবৃন্দকে। মক ট্রায়ালের বিশেষ অতিথি ও সম্মানিত বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. জিয়াউর রাহমান (জেলা ও দায়রা জজ) এবং রিমি সাহা (সিনিয়র সিভিল জজ)।
মক ট্রায়ালে শিক্ষার্থীরা আইনজীবী ও সাক্ষীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। একটি ক্রিমিনাল ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয় ৭ম সেমিস্টারের দুটি দলের মধ্যে এবং ৮ম সেমিস্টারের দুটি দলের মধ্যে । ট্রায়াল শুরু হয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন এবং রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে। এরপর চলতে থাকে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে যুক্তিতর্ক যেখানে সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুইপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দী এবং বিশেষ করে জেরা করবার প্রক্রিয়া। এরপর শুরু হয় একের পর এক সাক্ষ্য প্রমাণ ও আইনি যুক্তি স্থাপন এবং খণ্ডন। বিশেষ করে ট্রায়ালের এ পর্যায়ে, তথা সমগ্র ট্রায়ালে এই শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় নৈপুণ্যে বিচারক মহোদয় অত্যন্ত মুগ্ধ হন। জেরা ও জবানবন্দী শেষে অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে পক্ষদ্বয়ের আইনজীবীদের মধ্যে চলতে থাকে শেষ পর্যায়ের যুক্তিতর্ক এবং কাঙ্ক্ষিত বিচার প্রার্থনা।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে মক ট্রায়ালের বিষয়বস্তুর উপর বিশ্লেষণধর্মী মত প্রকাশ করেন মাননীয় দুই বিচারক। তাদের বক্তৃতায় ফুটে ওঠে আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমন্ডলীর জন্য তুমুল প্রশংসা এবং উৎসাহ। সম্মানিত বিচারক মোঃ জিয়াউর রহমান অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মামলা পরিচালনায় পক্ষদের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিশেষ নির্দেশনা দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন মাননীয় বিচারক রিমি সাহা, তিনি মক ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি তার দীর্ঘ বিচারকালীন জীবনের অভিজ্ঞতার কিছু অংশ সকলের সামনে তুলে ধরেন যা আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জীবনমুখী শিক্ষা হয়ে থাকবে। আর এটি বলাই বাহুল্য যে এমন ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি পেয়ে আইন ও মানবাধিকার বিভাগসহ সমগ্র বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
সবশেষে আইন ও মানবাধিকার বিভাগের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর আবু নাসের মোঃ ওয়াহিদ, অত্যন্ত প্রাঞ্জল এবং তথ্যবহুল বক্তব্য প্রদান করেন। তিনিও মক-ট্রায়ালের অপরিসীম গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহিত করেন। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক আইন শিক্ষাই নয় বরং বাস্তব জীবনে আইনের প্রয়োগভিত্তিক কার্যপ্রণালী হাতেকলমে শেখার জন্য মক ট্রায়ালের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়াও, কিভাবে জীবনের লক্ষ্য অর্জন করে সফল হওয়া যায়, সে বিষয়ে সবাইকে বিপুলভাবে উৎসাহিত করেন। তিনি মক ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী, কোচ এবং আইন ও মানবাধিকার বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এতো সুন্দর একটি সেশন উপস্থাপনের জন্য।
পরিশেষে, পুরষ্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হয় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এই মক-ট্রায়াল। ৭ম সেমিস্টারের বেস্ট রোল প্লেয়ার এওয়ার্ড পায় মো. হাবিবুল্লাহ তামিম এবং বেস্ট অ্যাডভোকেট এওয়ার্ড পায় মিফতা মালিহা হক। ৮ম সেমিস্টারের বেস্ট রোল প্লেয়ার এওয়ার্ড পায় জান্নাতুল ফেরদৌস এবং বেস্ট অ্যাডভোকেট এওয়ার্ড পায় মেহজাবিন । এই মক ট্রায়াল নতুনদের জন্য এক অনুপ্রেরণার পাথেয় হয়ে থাকবে বলে আশা করা যায়।