রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ২০২৫ আয়োজিত

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ২০২৫ আয়োজিত

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের জন্য এক আনন্দমুখর শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করে থাকে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২০২৫ সালের বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ আয়োজন করা হয় দেশের ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় স্থান—হার্ডিঞ্জ ব্রিজ (পাবনা), লালন শাহ মাজার (কুষ্টিয়া), ও শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী (কুষ্টিয়া) ঘুরে দেখার জন্য।

 

সকাল ৮টায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে যাত্রা শুরু করে। এবারের ভ্রমণে ৩০০-এর অধিক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে, যা ভ্রমণটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ হাবিবুল্লাহ ও অন্যান্য সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যা ভ্রমণের শিক্ষামূলক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করে।

 

প্রথম গন্তব্য ছিল হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, যা পদ্মা নদীর বুকে এক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই রেলসেতুটি দেশের অন্যতম প্রাচীন ও নান্দনিক স্থাপত্যের নিদর্শন। শিক্ষার্থীরা ব্রিজের স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণের ইতিহাস সম্পর্কে জানার পাশাপাশি পদ্মার তীরবর্তী সৌন্দর্য উপভোগ করে। এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম ও ছবি তোলার পর আমরা আমাদের পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেই।

এরপর আমরা পৌঁছাই বাউল সম্রাট লালন শাহ-এর মাজারে। লালন ফকির শুধু একজন সংগীতজ্ঞই ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবতার দার্শনিকও। তাঁর মাজারে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বাউল গান ও তাঁর জীবনদর্শন সম্পর্কে জানতে পারে। মাজার চত্বরে চলছিল বাউল সংগীতানুষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীরা বাউল গানের আবহে নিজেদের মুগ্ধ করে তোলে।

ভ্রমণের শেষ গন্তব্য ছিল শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটি বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতির এক মূল্যবান নিদর্শন। কুঠিবাড়ির প্রতিটি কোণায় রবীন্দ্রনাথের ছোঁয়া যেন আজও স্পষ্ট। শিক্ষার্থীরা এখানে কবির ব্যবহৃত জিনিসপত্র, তাঁর লেখা পাণ্ডুলিপি ও অন্যান্য সংগ্রহ ঘুরে দেখে। অনেকেই রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে তোলে।

রাত ১০টায় আমাদের দল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। সারাদিনের এই আনন্দময় ভ্রমণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এই ভ্রমণ শুধু বিনোদনই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চারও এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।