মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনাকে ধারণ করে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের উদ্যোগে রাজশাহীর বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম মাদ্রাসার এতিমখানার ৭০ জন শিশুকে নিয়ে একটি মানবিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা, তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
কর্মসূচিটি চারটি প্রধান অংশে সাজানো হয়। এর মধ্যে ছিল এতিম শিশুদের জন্য দুপুরের খাবার রান্না, শিশুদের সঙ্গে একত্রে দুপুরের খাবার গ্রহণ, এতিমখানার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য ফুটবল উপহার প্রদান।
কর্মসূচির শুরুতে এতিমখানার ৭০ জন শিশুর জন্য দুপুরের খাবার রান্নার আয়োজন করা হয়। শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি এবং তাদের প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ আয়োজনের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
পরে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. কানিজ হাবিবা আফরিন ও বিভাগের শিক্ষকরা শিশুদের সঙ্গে দুপুরের খাবারে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বিভাগীয় প্রধান শিশুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান, তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। শিশুদের সঙ্গে একই পরিবেশে বসে খাবার গ্রহণের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি, আন্তরিকতা ও মানবিক সম্পর্কের এক সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।
কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এতিমখানার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়। এ সময় বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. কানিজ হাবিবা আফরিন এতিমখানার সার্বিক পরিস্থিতি, শিশুদের দেখাশোনা, শিক্ষা, পরিচর্যা ও কল্যাণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। শিশুদের প্রয়োজন ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা এবং তাদের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের গুরুত্ব এ মতবিনিময়ে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।
এ ছাড়া শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের জন্য একটি ফুটবল উপহার দেওয়া হয়। খেলাধুলা শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের শারীরিক সক্ষমতা, পারস্পরিক সহযোগিতা, দলগত মনোভাব ও সামাজিক দক্ষতা বিকাশেও সহায়ক। ফুটবল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে শিশুদের নিয়মিত খেলাধুলায় উৎসাহিত করার একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা নেওয়া হয়।