বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটিল সিটিজেনশিপ ট্রেনিং -গুজব প্রতিরোধে কাজ করবেন শিক্ষার্থীরা

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটিল সিটিজেনশিপ ট্রেনিং -গুজব প্রতিরোধে কাজ করবেন শিক্ষার্থীরা
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ৫ দিনব্যাপী 'ডিজিটাল সিটিজেনশিপ অ্যান্ড মিসইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স ট্রেনিং'। জার্নালিজিম, কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্ট্যাডিজ- (জেসিএমএস) বিভাগ আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন ৭০ জন শিক্ষার্থী। মিথ্যা তথ্য ছড়ানো বন্ধে ৫ টি কমিউনিটি অ্যাকশন প্রকল্প (CAP) বাস্তবায়ন করবেন তারা।
 
ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইয়ুথ কানেক্ট প্রকল্প এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB) এর সহায়তায় দুইধাপে এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়। প্রথম ধাপে ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি এবং পরে ১৯ তারিখ অনলাইনে সেশন পরিচালনা করা হয় এবং ২২ তারিখ শিক্ষার্থীরা তাদের কমিউনিটি অ্যাকশন প্রজেক্টের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
 
ডিজিটাল নাগরিকত্ব, অনলাইন আচরণ, তথ্য যাচাই কৌশল, ভুয়া খবর শনাক্ত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা সম্পর্কে হাতে-কলমে শেখানো হয় শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থী মেহেরুন নেসা বলেন, কোন তথ্যটা সত্য আর কোনটা মতামত সেই পার্থক্য শিখতে পেরেছি। তথ্যের সত্যতা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় তাও শিখেছি এই প্রশিক্ষণ থেকে। আরেক শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য মণ্ডল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারেও যে কিছু নৈতিকতা ও মূল্যবোধ মানা উচিত তা জানা ছিল না। এই প্রশিক্ষণ থেকে তা শিখতে পেরেছি।'
 
জেসিএমএস বিভাগের শিক্ষক ও আয়োজনের প্রশিক্ষক মুহাম্মদ রাকিব হোসাইন জানান, 'অংশগ্রহণকারীদের এমনভাবে সবকিছু শেখানো হয়েছে যে তারা তাদের পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদেরও এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে পারবেন। যার মাধ্যমে একটা সুন্দর ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি হবে।'
জেসিএমএস বিভাগের আরেক শিক্ষক ও আয়োজনের প্রশিক্ষক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'আমরা সবাই মোটামুটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করি। সেখানে কীভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হয় সে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানার সুযোগ পেয়েছেন। আশা করছি তাদের মাধ্যমে একটা সুন্দর পরিবর্তনের সূচনা হবে।'
 
জেসিএমএস বিভাগের সমন্বয়ক শাতিল সিরাজ বলেন, সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে তো বটেই একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেও যেকোন তথ্যকে সরলভাবে বিশ্বাস না করে যাচাই বাছাই করা জরুরি। বিশেষ করে কোন সংবাদটি সত্য আর কোন তথ্যটি বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এই বিষয়ে জানাটা খুবই জরুরি।'
 
প্রশিক্ষণে আরো ছিলেন ফ্যাক্টওয়াচের ফ্যাক্টচেকার রিদওয়ান ইসলাম। তিনি বলেন, 'দেশের প্রতিটি নাগরিকদের যেমন বেশ কিছু কর্তব্য থাকে তেমনিভাবে ডিজিটাল সিটিজেনদেরও ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে সচেতন আচরণ করা উচিত। কতটুকু তথ্য বিশ্বাস করা যাবে, কোন তথ্য শেয়ার করা উচিত তা নিয়েই আমাদের এই প্রশিক্ষণ।'
 
ইউল্যাবের সিনিয়র লেকচারার মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল লিটারেসি না থাকলে কিন্তু আমাদের আজকের জেনারেশন এবং ভবিষ্যৎ জেনারেশন জীবন-সমাজ-রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশ্নে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। অনলাইনে সহনশীলতা চর্চা বাড়াতেও এই বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।'
 
ডিজিটাল সিটিজেনশিপ অ্যান্ড মিসইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স ট্রেনিং প্রকল্পের আওতায় দেশের ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০০ জনের অধিক শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে এই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাদের মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে একটি 'ইনফরমেশন হাব' গঠন করা হবে। যারা মিথ্যা তথ্য রুখে দিতে কাজ করবেন।