বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগে “Constitutional Reform in Bangladesh: Expectations and Challenges” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগে “Constitutional Reform in Bangladesh: Expectations and Challenges” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগ কর্তৃক “Constitutional Reform in Bangladesh: Expectations and Challenges” শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ মে, ২০২৫) বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আইন ও মানবাধিকার বিভাগ কর্তৃক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০.৩০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন উক্ত বিভাগের প্রভাষক রুবাইয়া এলিন সুধা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ খাদেমুল ইসলাম মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন ও মানবাধিকার বিভাগের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর আবু নাসের মো. ওয়াহিদ।

এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কি-নোট স্পীকার বাংলাদেশের সংবিধান ও তুলনামূলক সংবিধানিক আইনের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. মোঃ একরামুল হক, সদস্য, সংবিধান সংস্কার কমিশন এবং ভারপ্রাপ্ত ডিন ও অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও আলোচক হিসাবে সরাসরি অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার সাংবিধানিক আইনের একজন খ্যাতিমান ও প্রভাবশালী গবেষক প্রফেসর ড. রিদওয়ানুল হক, সহযোগী ডিন, গভর্নেন্স, ইনস্টিটিউট অফ হেলথ এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, মেলবোর্ন, অস্ট্রে্লিয়া।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ খাদেমুল ইসলাম মোল্লা এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা। অতঃপর অনুষ্ঠানের সন্মানিত অতিথি, কি-নোট স্পিকার প্রফেসর ড. মোঃ একরামুল হক স্যারকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ খাদেমুল ইসলাম মোল্লা। এরপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মোঃ একরামুল হক এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। তিনি সংবিধানে জনগণের প্রত্যাশা, সংবিধান সংস্থার ও গভর্নেন্সে জনগণের অংশগ্রহণ কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। সংবিধান সংস্কার কমিশন কোন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে  সংবিধান সংস্কারে সুপারিশ করেছেন তা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।   সংবিধান সংস্কার কমিশন কি কি সুপারিশ করেন এবং সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন করতে গেলে কোন কোন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে তা আলোচনা করেন।

এরপর সম্মানিত আলোচক ড. রিদওয়ানুল হক ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত সংঘটিত নির্বাচন এবং সংবিধান সংশোধনীর আলোকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। তার বক্তব্যে সংবিধান সংস্থার কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত সুপারিশের উপর তার দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সংবিধানে মূলনীতির প্রয়োজনীয়তা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৫(৩) নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে থেকে প্রশ্ন নেওয়া হয় এবং সম্মানিত বক্তারা তার উত্তর প্রদান করেন। এরপর আইন ও মানবাধিকার বিভাগের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর আবু নাসের মো. ওয়াহিদ সমাপনী বক্তব্য প্রদান করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।