আইন ও মানবাধিকার বিভাগ কর্তৃক আন্ত-সেমিস্টার আন্তর্জাতিক আইন মুট কোর্ট প্রতিযোগীতা ২০২৫ অনুষ্ঠিত

আইন ও মানবাধিকার বিভাগ কর্তৃক আন্ত-সেমিস্টার আন্তর্জাতিক আইন মুট কোর্ট প্রতিযোগীতা ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের নিয়ে “The 2025 VUMCC Inter-Semester International Law Moot Court Competition” শীর্ষক মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ প্রতিযোগীতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহীর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ খাদেমুল ইসলাম মোল্যা এবং সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর আবু নাসের মোঃ ওয়াহিদ, কো-অর্ডিনেটর, আইন ও মানবাধিকার বিভাগ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকা হিসেবে ছিলেন আইন ও মানবাধিকার বিভাগের প্রভাষক রাঈসা হোসেন এষণা। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ ও কর্মচারীবৃন্দ।

“বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট ক্লাব" এর আয়োজনে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শুরু হয় সামার ২০২৫ ইন্টার-সেমিস্টার আন্তর্জাতিক আইন মুট কোর্ট কম্পিটিশন যার চুড়ান্ত আসর অনুষ্ঠিত ও ফলাফল প্রকাশিত হয় সোমবার (১৩ অক্টোবর)। উক্ত পর্বে বিচারক ছিলেন আইন ও মানবাধিকার বিভাগের চারজন সম্মানিত প্রভাষক যথাক্রমে, মাসরুর আবদুল্লাহ আবিদ - উপদেষ্টা, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট ক্লাব; মোঃ শোয়াইব-বিন-হাবিব (নাহিন) – আহবায়ক, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট ক্লাব এবং সহকারী প্রোক্টর, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়; মোঃ শামসুল ইসলাম – যুগ্ম আহবায়ক, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট ক্লাব; ইসফার তেহামি সরকার - যুগ্ম আহবায়ক, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট ক্লাব।

মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় মূলত আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত সাজানো হয়। আইনজীবী হন শিক্ষার্থীরা। “The Case Concerning The Bellatrix Lestrange” শীর্ষক মামলার ঘটনাটি ছিল কাল্পনিক যেখানে আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। এই সাজানো আদালতে প্রতিযোগীরা সাজানো মামলা লড়েন। এই ছায়া আদালতটিই 'মুট কোর্ট'। একটি দল থেকে ৩ সদস্যের মধ্যে ২ জন থাকেন মুটার এবং একজন গবেষক।

এবারের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হয় টিম ১৭১, যাদের প্রথম মুটার- সামাইলা মেহজাবিন শাইলা (৩১ তম ব্যাচ), দ্বিতীয় মুটার- সুমাইয়া রহমান রিধীতা (৩১ তম ব্যাচ) এবং গবেষক- রুখশান মোঃ আকিবুন আসরার (৩১ তম ব্যাচ)। রানার্স-আপ নির্বাচিত টিম ১৪০, যাদের প্রথম মুটার- সাদিয়া রহমান সত্তা (৩৫ তম ব্যাচ), দ্বিতীয় মুটার- মোঃ আব্দুল হাদি (৩৫ তম ব্যাচ) এবং গবেষক- আফিয়া আদিল্লাহ সাদিয়া (৩৫ তম ব্যাচ)। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ছাড়াও আরও বেশ কিছু পুরস্কারের প্রচলন আছে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতার শুরুতে দলের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে লিখিত যুক্তিতর্ক জমা দিতে হয়। এতে যারা বেশি স্কোর অর্জন করেন তারা পায় 'বেস্ট মেমোরিয়াল – এপ্লিকেনট ও রেস্পন্ডেন্ট' পুরস্কার। এ পুরষ্কার অর্জন করেছে যথাক্রমে টিম ১৮১ যার ১ম মুটার- ফাওজিয়া কবির রাফা (৩৫ তম ব্যাচ), ২য় মুটার- উদয় দিগন্ত (৩৫ তম ব্যাচ), এবং গবেষক- মোঃ সারোয়ার জাহান প্রিন্স (৩৫ তম ব্যাচ) ও টিম ১৭১ যার প্রথম মুটার- সামাইলা মেহজাবিন শাইলা (৩১ তম ব্যাচ), দ্বিতীয় মুটার- সুমাইয়া রহমান রিধীতা (৩১ তম ব্যাচ) এবং গবেষক- রুখশান মোঃ আকিবুন আশরার (৩১ তম ব্যাচ)।

বক্তব্য দেওয়ার সময় মুটারদের বক্তব্যের সমর্থনে আইনের বইপুস্তক ও আইনগত দলিলপত্র আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন দলের রিসার্চার। 'বেস্ট রিসার্চার' পুরষ্কার পেয়েছেন বিজয়ী দল ১৭১ এর গবেষক রুখশান মোঃ আকিবুন আশরার (৩১ তম ব্যাচ)। বেস্ট মুটার হয়েছেন রানার্স-আপ দল ১৪০ এর ১ম মুটার সাদিয়া রহমান সত্তা (৩৫ তম ব্যাচ)। বেস্ট টিম স্পিরিট পুরস্কার প্রাপ্ত হয় টিম ১০১ যার ১ম মুটার- লীনা বিশ্বাস (৩১ ব্যাচ), ২য় মুটার- মোছাঃ তানিয়া ইসলাম, গবেষক- সাদিয়া তাসনিম দীনা। এ প্রতিযোগিতায় ১৬ টি টিমের প্রত্যেক সদস্য অর্জন করেছে অংশগ্রহণ সনদ।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহীর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ খাদেমুল ইসলাম মোল্যা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় মুটিং ও রিসার্চ দেখে আমি অভিভূত।’ তিনি আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগ থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান আইনজীবী ও বিচারক বের হবে বলে তিনি আশা ব্যাক্ত করেন। তিনি আরো বলেন যে, এই প্রতিযোগিতাকে প্রস্তুতিস্বরুপ কল্পনা করে ভবিষ্যতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মুট কোর্ট প্রতিযোগিতাগুলোতেও অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্র বিভাগের শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনাম বয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়েই যেন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যায় সেই বিষয়ে তিনি আইন ও মানবাধিকার বিভাগের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন।

বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি এবং আইন ও মানবাধিকার বিভাগের কো-অর্ডিনেটর প্রতিযোগীদের মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন। পরিশেষে আইন ও মানবাধিকার বিভাগের কো-অর্ডিনেটরের সমাপনী বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি মুটিং চর্চা অব্যাহত রেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মুট কোর্টে অংশ নেবার প্রস্তুতি নিতে বলেন। পরিশেষে আইন ও মানবাধিকার বিভাগের কো-অর্ডিনেটরের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।